Prothom Alo

কার জন্য কেমন ইন্টারনেট প্যাকেজ?

thumb internet package options bangladeshকিছুদিন আগে পর্যন্ত হয়তো ইন্টারনেট ব্যবহার অনেকটা শখের বিষয় ছিল। কিন্তু এখন দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়ে আছে ইন্টারনেট। পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য আদান-প্রদান, ব্যবসার কাজ পরিচালনাসহ আরও বহু কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মোট ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি বড় অংশ মুঠোফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম যেমন আলাদা হতে পারে একইভাবে সবার ব্যবহার ও প্রয়োজন এক রকম নয়। প্রয়োজন ও কাজের ধরন অনুযায়ী ইন্টারনেট সংযোগ বেছে নিলে খরচটাও নিয়ন্ত্রণের মধ্য রাখা সম্ভব হয়।


থ্রিজি ইন্টারনেট
দেশের সবগুলো মুঠোফোন সংযোগদাতাই উচ্চগতির থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকে। তবে সব সংযোগদাতা যে দেশব্যাপী এই সেবা দিতে পারছে এমন নয়। তাই ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার আগে আপনি নির্দিষ্ট ‘কভারেজ’ এলাকার মধ্যে আছেন কি না, সেটি দেখে নেওয়া উচিত। ইন্টারনেট প্যাকেজগুলো বেশ কয়েকভাবে ভাগ করে তৈির করা হয়েছে। এগুলো মূলত ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে সাজানো হয়। প্যাকেজগুলোকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো সাধারণ ইন্টারনেট প্যাকেজ—যা নির্দিষ্ট কয়েক দিন বা কয়েক ঘণ্টার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া থাকে। আর ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডেটা ব্যবহার করা যাবে। সংযোগদাতা ভেদে এই সময় ও ডেটার পরিমাণ কিছুটা আলাদা হয়ে থাকে। আবার কিছু সংযোগদাতা অফপিক সময়ে (সাধারণত কম ব্যবহার হয় যে সময়ে) বা গভীর রাতে ব্যবহারের জন্য অন্য সময়ের থেকে কিছুটা কম মূল্যের প্যাকেজ নির্বাচনের সুযোগ রেখেছে।
মুঠোফোন সংযোগদাতাদের সোশ্যাল প্যাকগুলো তাদের জন্য, যারা ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারের মতো কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের বাইরে আর কিছুই করে না। বিশাল এই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যাদের ব্যবহার এই তিন-চারটি ওয়েবসাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের কথা ভেবেই এই প্যাকেজগুলো তৈরি করেছে। এই প্যাকেজ সক্রিয় থাকার পরে ওই তিন-চারটি ওয়েবসাইট-সেবার বাইরে কোনো ওয়েবসাইট দেখতে চাইলে আলাদা করে অন্য কোনো প্যাকেজও সক্রিয় রাখতে হতে পারে। সাধারণ ডেটা ভলিউম প্যাকেজ থেকে এই ধরনের সোশ্যাল প্যাকগুলোর মূল্য তুলনামূলক কম।

কম্পিউটার থাকবে ভালো, যদি...

কম্পিউটার, স্মার্টফোনসহ নানা যন্ত্র এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আধুনিক এই যন্ত্রগুলো ব্যবহারকারীর সাধারণ অভ্যাসের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়। বিভিন্ন কাজ করার প্রোগ্রাম বা অ্যাপগুলোও এতটাই সহজভাবে তৈরি করা হয়, যেন যেকোনো বয়সের ব্যবহারকারীই এগুলো সহজে ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহার শুরু করার চেষ্টা করলেই ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি আয়ত্তে চলে আসে। তবে এসব যন্ত্র সাবলীলভাবে ব্যবহার করতে এবং এগুলোর যত্নে কিছু বিষয় জানা থাকা ভালো। তেমন কিছু বিষয় নিয়েই এই আয়োজন।

ব্যবহার করলে কম্পিউটার নষ্ট হয় না
কম্পিউটার ব্যবহার শেখা বা নিয়মিত ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটিমাত্র বিষয় মনে রাখলে খুব দ্রুত সব ধরনের কাজ শিখে ফেলা সম্ভব। আর এই বিষয়টি হলো ব্যবহার করলে কখনো ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন নষ্ট হয় না। ব্যাখ্যা করলে ব্যাপারটা আরও সহজে বোঝা যাবে। কম্পিউটারে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহার করা হয়, একজন ব্যবহারকারী অ্যাপে কী কী কাজ করতে পারবেন, সেটি নির্ধারিত থাকে এর বাইরে কিছু করার চেষ্টা করলে। সে ক্ষেত্রে বার্তার মাধ্যমে দেখানো হয় যে কাজটি সম্ভব নয়। আর এটি প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার যে কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহার করতে করতে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যাবে।

বাস্তব পরাবাস্তব অতিবাস্তব!

অগমেন্টেড রিয়ালিটি হলো নির্দিষ্ট সময়ে চারপাশের বাস্তব পরিবেশের বিশেষ একটি রূপ, যা কম্পিউটার পরিচালিত বিভিন্ন সেন্সর যেমন শব্দ, ভিডিও, ছবি ইত্যাদির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে কম্পিউটারের মাধ্যমে চারপাশের পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিবর্তন বা নতুন উপাদান সংযোজন করে পরিবেশের একটি ভিন্ন রূপ উপস্থাপন করা হয়। আর এই পরিবর্তনগুলোই তখন বাস্তবতার অংশ বলে মনে হয়। অগমেন্টেড রিয়ালিটির নানা ব্যবহার আছে। কখনো কখনো চারপাশের পরিবেশের বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হয়, আবার কখনো কখনো প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে কাজকে আরও সহজ করে দেয়।

মুক্ত লাইসেন্সের আসর

ক্রিয়েটিভ কমন্স হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা সৃজনশীল শিল্পকর্ম এবং মেধাভিত্তিক প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে। ক্রিয়েটিভ কমন্সের কপিরাইট লাইসেন্সগুলোর মাধ্যমে সহজেই ব্যবহারকারীরা তাঁদের কাজগুলো ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে নিজের কাজ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া দেওয়া যায়, অন্যদের ব্যবহার করতে দেওয়া যায়। এতে নতুন সৃষ্টিতে অন্যকেও উৎসাহিত করা যায়। ক্রিয়েটিভ কমন্স (সিসি) লাইসেন্সগুলো স্থানীয় কপিরাইট লাইসেন্সের বিকল্প নয় বরং দুটি লাইসেন্সই একই সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।


গত ১৪ থেকে ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ক্রিয়েটিভ কমনসের ‘গ্লোবাল সামিট ২০১৫’। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় জাদুঘরে আয়োজন করা হয়েছিল এই সম্মেলন। চার দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ৫০০ অতিথি। ৮০টি দেশ থেকে ক্রিয়েটিভ কমন্সের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।


সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবে যোগ দিয়েছিলেন ক্রিয়েটিভ কমন্সের প্রতিষ্ঠাতা লরেন্স লেসিগ। তিনি এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সম্মেলনের প্রথম দিনটি ছিল ক্রিয়েটিভ কমন্সের প্রতিনিধিদের জন্য। এখন যেসব কার্যক্রম চলছে, সেগুলো কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে দিনভর আলোচনা চলে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সফল ও চলমান প্রকল্পগুলো দেখানো হয়।

শিখিয়া করিও কাজ

‘আউটসোর্সিং’, ‘ফ্রিল্যান্স’, ‘আয় করুন বৈদেশিক মুদ্রা ঘরে বসেই’ ইত্যাদি শব্দ বা বাক্যের সঙ্গে এখন অনেকেই পরিচিত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। এই বিষয়গুলো নানা সময় নানাভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়ে থাকে। তরুণদের অনেকেই মনে করেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করলেই বুঝি কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার আসতে থাকবে। কিন্তু আউটসোর্সিংয়ের কাজে সাফল্যের খবর যেমন জানা যায়, ব্যর্থতার খবর তেমন নয়। প্রকৃতপক্ষে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ে ব্যর্থতার ঘটনা অনেক বেশি। কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন ছাড়া অনলাইনে আয় করা সম্ভব নয়। শুরুর আউটসোর্সিং বিষয়টা সম্পর্কে জানতে হবে। লিখেছেন নাসির খান

সবার আগে নিরাপত্তা

ইন্টারনেটের ব্যবহার দৈনন্দিন কাজগুলোকে সহজ করে দিয়েছে। পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, কেনাকাটার মতো কাজগুলো ইন্টারনেটের বদৌলতে আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। পরিসংখ্যানও বলে দিচ্ছে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে চলছে। আর ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ই-মেইল, অনলাইনে কেনাকাটা, ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো জনপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ব্যবহারকারীদের।

সফটওয়্যার ও অ্যাপ ইনস্টলে সতর্কতা
কম্পিউটার বা মোবাইল যে যন্ত্রের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রথমে সেটির সুরক্ষা প্রয়োজন। যতগুলো সফটওয়্যার বা অ্যাপ ইনস্টল করা আছে সেগুলো নির্দিষ্ট কী কী কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জানা থাকতে হবে। নতুন কম্পিউটার কেনার পরে না চাইতেই অনেক অনেক সফটওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হয়, কিন্তু সেগুলোর কোনো প্রয়োজন আছে কি না, সেটি জেনে নেওয়া উচিত।

About the author

Who‘s behind this

nasir khan avatar

Nasir Khan

nasir8891@gmail.com

http://nasirkhn.com

Dhaka

Bangladesh