বাস্তব পরাবাস্তব অতিবাস্তব!

অগমেন্টেড রিয়ালিটি হলো নির্দিষ্ট সময়ে চারপাশের বাস্তব পরিবেশের বিশেষ একটি রূপ, যা কম্পিউটার পরিচালিত বিভিন্ন সেন্সর যেমন শব্দ, ভিডিও, ছবি ইত্যাদির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে কম্পিউটারের মাধ্যমে চারপাশের পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিবর্তন বা নতুন উপাদান সংযোজন করে পরিবেশের একটি ভিন্ন রূপ উপস্থাপন করা হয়। আর এই পরিবর্তনগুলোই তখন বাস্তবতার অংশ বলে মনে হয়। অগমেন্টেড রিয়ালিটির নানা ব্যবহার আছে। কখনো কখনো চারপাশের পরিবেশের বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হয়, আবার কখনো কখনো প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে কাজকে আরও সহজ করে দেয়।


অগমেন্টেড বনাম ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি
অগমেন্টেড রিয়ালিটি ও ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি বিষয় দুটি অনেক সময় এক মনে হলেও মূল বৈশিষ্ট্য কিন্তু আলাদা। ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটিতে চারপাশের বাস্তব পরিবেশ প্রতিস্থাপন করা হয় কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো পরিবেশ দিয়ে। অন্যদিকে, অগমেন্টেড রিয়ালিটি সাধারণভাবে ‘রিয়াল টাইম’ হয়ে থাকে এবং চারপাশের উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়। আধুনিক অগমেন্টেড রিয়ালিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশের উপাদানগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান এখন অনেকাংশেই সম্ভব।

অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে কিছু যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয় চারপাশের পরিবেশ থেকে উপাত্ত সংগ্রহের জন্য, কিছু যন্ত্রাংশ দিয়ে তা ব্যবহারকারীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনের জন্যও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। যেমন কখনো কখনো স্মার্টফোন বা সাধারণ মনিটরের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। অ্যাপস্টোর থেকে অগমেন্টেড রিয়ালিটির বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। গুগল গ্লাসের জন্যও বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে। গ্লাসের মধ্য দিয়ে যেদিকে তাকানো হবে, সেটি সম্পর্কে তথ্য প্রদর্শন করা হয়। গত বছর মাইক্রোসফট ‘হলো লেন্স’ নামের বিশেষ একটি যন্ত্র প্রদর্শন করে। নির্দিষ্টভাবে অগমেন্টেড রিয়ালিটি উপস্থাপনের জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই হেডসেটটি।
যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করে অগমেন্টেড রিয়ালিটি তৈরি করা হয়, তার মূল লক্ষ্য থাকে কম্পিউটারের মাধ্যমে যে তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেগুলো কতটা বাস্তবসম্মত করা যায়।
১৯০১ সালে লাইম্যান ফ্রাংক বাউম নামের একজন মার্কিন লেখক প্রথম অগমেন্টেড রিয়ালিটি বিষয়টি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৭ থেকে ৬২ সাল পর্যন্ত সময়কালে মর্টন হেইলিগ নামের একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি-ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং এই সিমুলেশন প্রযুক্তি পেটেন্ট করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে গুগল গ্লাস ও মাইক্রোসফটের হলো লেন্সের মতো প্রযুক্তিপণ্য।
লেখক: নাসির খান, সফটওয়্যার প্রকৌশলী

Published on Prothom Alo on April 4, 2016 http://www.prothom-alo.com/technology/article/818911

reality virtual reality augmented reality

 

Tags: Prothom Alo

About the author

Who‘s behind this

nasir khan avatar

Nasir Khan

nasir8891@gmail.com

http://nasirkhn.com

Dhaka

Bangladesh